রায়পুরে দিনমজুরদের বসতঘরসহ মালামাল লুট, আহত-১০

hamlaরায়পুর প্রতিনিধি: রায়পুরে দিন দুপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন দুই দিনমজুরের দুইটি বসতঘরসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল ভাড়াটিয়া সশস্ত্র লোকজনের মাধ্যমে লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা । এসময় বাধা দেয়ায় ৪ নারীসহ ১০ জনকে পিটিয়ে ও শ্লীলতাহানি করে আহত করা হয়েছে। সোমবার বিকালে উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের উত্তর কেরোয়া গ্রামের রেজা উদ্দিন রাড়ী বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে লুট হওয়া বসতঘরের কয়েকটি টিন উদ্ধার করলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্থ দিনমজুর আবুল হাশেম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে সন্ত্রাসীরা বসতঘর লুটপাট করায় দুই দিনমজুর তার পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করায় এলাকাবাসীর মাঝে চরমক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর ধরে উত্তর কেরোয়া গ্রামের দিনমজুর আবুল হাশেমের সঙ্গে একই এলাকার উকিল বাড়ীর প্রভাবশালী মো. হাসেমের ৬ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলে। এঘটনায় কয়েকবার চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিক বৈঠকের পরেও মিমাংশা আসতে পারেনি। পরে এক সময়ে প্রভাবশালী মো. হাসেম গোপনে দিনমজুর আবুল হাশেমের নামে ওই বিরোধকৃত ওই জমি নিজের নামে নিয়ে নেয়।

এঘটনায় এলাকাবাসী জানতে পেরে কয়েকদিন আগে মো. হাসেমকে বিরোধকৃত ওই জমিটি ওই দিনমজুরকে ছেড়ে দিতে বলেন। এরই মাঝে আদালতে ওই জমিটি দিনমজুর আবুল হাশেমের পক্ষে রায় দেয়। এরই জের ধরে সোমবার বিকালে মো. হাসেমের ছেলে বখাটে মামুন ও ইমনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের ভাড়াটিয়া সশ¯্র সন্ত্রাসী দিনমজুর আবুল হাশেম ও তার ছেলে মো. টিটুর বাড়ীতে হামলা চালায়। এসময় তারা দুইটি বসতঘরসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়ে যায়। এসময় তারা ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে বাধা দেওয়ায় রাবেয়া, রুনা, রিনা, রেজিয়া ও আবুল হাসেমসহ ১০ জনকে পিটিয়ে ও শ্লীলতাহানি করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদেরকে উদ্ধার করে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী মো. হাসেম ও তার ছেলে মামুনসহ তার লোকজন পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে মামুন বিএনপির পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ড করছেন বলে তার প্রতিবেশিরা জানান।

কেরোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা নাজমুল হুদা বলেন, ঘটনার সাথে যারা জড়িতরা সন্ত্রাসী প্রকৃতিরলোক। পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।

রায়পুর থানার উপ-পরির্দশ মো. জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দিনমজুরের লুট হওয়া বসতঘরের কয়েকটি টিন প্রতিপক্ষের বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক থাকায় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা যায়নি।