লক্ষ্মীপুর জেলাব্যাপী গ্রামীণফোন ইন্টারনেটের লো স্পীড , চরম ভোগান্তিসহ গ্রাহকদের পকেট খালি

সানা উল্লাহ সানুঃ গত এক সপ্তাহ হতে লক্ষ্মীপুর জেলাব্যাপী গ্রামীণফোন ইন্টারনেট গ্রাহকরা স্পীড নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এবং এ সুযোগে গ্রামীণফোন গ্রাহকের পকেট খালি করছে বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা।

অনেকে তাদের প্রয়োজনীয় ২০-৩০কিলোবাইটের একটি ইমেইল পাঠাতে কমপক্ষে আধা ঘন্টা সময় ব্যয় করার পরও কাজ শেষ করতে পারছে না বলেও অভিযোগ করছেন।
এ নিয়ে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলেও কোন সুফল আসছে না। ফলে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তি ভোগ করছেন।
অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের অভিযোগ বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ জেলার ব্যবহারকারীরা বর্তমানে গ্রামীণফোন থেকে সর্বনি¤œমানের ইন্টারনেট সেবার নামে ভোগান্তি পাচ্ছেন।
নি¤œমানের ইন্টারনেট সেবা সর্ম্পকে অভিযোগ করে গ্রামীণফোনের নিয়মিত গ্রাহক কমলনগরের তোরাবগঞ্জ বাজারের ই-কম্পিউটারের পরিচালক নুরুল হুদা মার্টিনী জানান, আমি গ্রামীণের প্রথম দিকের একজন ইন্টারনেট গ্রাহক।
আমার এলাকায় ২জি ইন্টারনেট রয়েছে । মনে হয় কখনও ৩জি ইন্টারনেট আমরা পাবো না। বর্তমানে আমি ব্যবসায়ীক কাজে প্রতি মাসে প্রতিবার ২জিবি হারে ২ বার ইন্টারনেট ডাটা কিনি।
গ্রামীণফোনের একটি বিটিএস (টাওয়ার) এর মাত্র ১০ মিটারের মধ্যে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করি। এ কয়েক দিন গ্রামীণের ইন্টারনেট সেবা এত বাজে মানের যা ভাষায় বুঝাতে পারবো না।
আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার মধ্যে মনে হয় এ কয়েক দিনই গ্রামীণফোন সর্বনিম্ম মানের ইন্টারনেট সেবার নামে আমাদের পকেট খালি করছে।
তাদের কাছে বারবার অভিযোগ দিচ্ছি কোন কাজ হচ্ছে না। তারা আমাদের কথার কোন পাত্তাই দিচ্ছে না। মনে হয় এ বিষয়টি দেখার মতো দেশে কোন লোক নেই। আমরা বাধ্য হয়েই এখনও গ্রামীণের ২জি নামের বাজে সেবা নিচ্ছি। সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমার ব্যবসা ইন্টারনেট নির্ভর যে কারণে বর্তমানে আমি ব্যবসায়ীক ভাবে বড় রকমের ক্ষতির সম্মুখীন।
শুধু নুরুল হুদা মার্টিনীই নয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় ইন্টারনেট ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বাংলানিউজের লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজের ছাত্র মোঃ হাছান, মোঃ মুরাদ, রায়পুরের সাংবাদিক তাবারক হোসেন আজাদ,রামগতির উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিন পলাশ, সাংবাদিক ছাইফুল্লাহ হেলাল, রামগঞ্জের সাংবাদিক জাকির হোসেন মোস্তান, জি এম বাবর, চন্দ্রগঞ্জের সাংবাদিক সোহেল মাহমুদ মিলন, মাহবুব সৈকতসহ গত ১ সপ্তাহে গ্রামীণফোনের অন্তত শতাধিক ইন্টারনেট গ্রাহক লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকম অফিসে ফোন করে গ্রামীণফোন ইন্টারনেটের সমস্যার কথা জানান।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর ডটকমের সংবাদ বিভাগ ও গ্রামীণফোনের ইন্টারনেটের লো স্পীডের কারণে সমস্যায় পড়ে গত ২৮অক্টোবর তারিখে সংবাদ পরিবেশনে গুরতর সমস্যায় পড়ে।
বিষয়টি নিয়ে ঐদিন সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোরের পক্ষে এ প্রতিবেদক গ্রামীণফোনের গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে কল দিয়ে দীর্ঘ ৩৯ মিনিট আলোচনা করেও কাংখিত কোন সমাধান পাওয়া যায়নি।
হঠাৎ করে গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট স্পীডের এ সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে, লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েক জন অভিজ্ঞ ইন্টারনেট গ্রাহকদের মধ্যে অন্যতম ছালেহ উদ্দিন পলাশ জানান, গ্রামীণফোন ইতোমধ্যে ভ্যাটসহ ৩শ ৫০ টাকায় ৩০ দিন মেয়াদের ১ জিবি ইন্টারনেট বিক্রি করে আসছিল।
অন্যদিকে গ্রাহকগণ স্লো স্পীডসহ নানা কারণে ১ মাসের মধ্যেই তাদের ওই ডাটা ব্যবহার করতে না পেরে পরবর্তীতে ১এমবি, ৯এমবি, ২৫এমবি নামক ইত্যাদি ক্লিক প্যাকেজ কিনে মেয়াদ বৃদ্ধি করে আসছিলেন।
প্রথম দিকে বিষয়টি লক্ষ না করলেও পরবর্তীতে এ বিষয়ে মনোযোগী হয় গ্রামীণফোন । তাই গ্রামীণফোন ক্লিক প্যাকেজে মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও ২০ এমবির বেশি ডাটা তারা কোন গ্রাহককে ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।
গ্রাহক মোঃ শাহাজানের ভাষায় গ্রামীণফোন নব্য ইস্টইন্ডিয়া রুপে গ্রাহকদের পকেট খালি করার জন্যই গ্রাহকদের একাউন্টে ডাটা থাকা সত্ত্বেও তাদের ডাটা অটোমেটিক ভাবে ব্লক করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে কিছু গ্রাহক অভিযোগ করে জানান, গ্রামীণের বর্তমাণে যে পরিমাণ ২জি গ্রাহক রয়েছে সে পরিমাণ ইকুইপমেন্ট তাদের নেই। সে কারণেই গ্রাহকরা কাংখিত সেবা না পেয়ে শুধুমাত্র অর্থ ও সময় অপচয় করছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলা ৪টি পৌর শহর এবং ৫৮টি ইউনিয়ন রয়েছে । ৬টি ফোন কোম্পানী, ২টি ওযাইম্যাক্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলালায়ন, কিউবি এবং একটি ব্রডব্যান্ড কোম্পানীই শুধুমাত্র সীমিত আকারে লক্ষ্মীপুর জেলা সদরে ৩জি ও ব্রড ব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে।
অথচ জেলার বিশাল জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও তাদের ভাগ্যে রয়েছে নি¤œমানের গলা কাটা ২জি ইন্টারনেট সেবা।
কেহ কেহ ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করে বলেন, এ ব্যবসাটি সাধারণের বোধগম্য নয় বিধায় বিষয়টি নিয়ে নিজে নিজে ভোগ করা ছাড়া কাহারো সাথে শেয়ার করার সুযোগ নেই। আর এই সুযোগেই বিদেশী এ সকল প্রতিষ্ঠান সেবার নামে দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ।
জেলার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা সরকার ইন্টারনেটের সেবার মান মনিটরিং এর ব্যবস্থা করবে এবং প্রতি জিবি ২জি ইন্টারনেটের দাম সর্বোচ্চ ৫০ টাকাসহ যে কোন প্যাকেজের মেয়াদ ১ বছর করবে।

অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গ্রামীণফোনের উর্ধ্বতন কর্তৃকপক্ষ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির সাথে যোগযোগ করা সম্ভব হয়নি।