লক্ষ্মীপুরে বড় দুই দলেই রয়েছে দ্বন্দ্ব

মোঃ আব্দুল খালেক/দৈনিক ইত্তেফাক : মেঘনার ইলিশ, নারিকেল-সুপারি আর ধান-সয়াবিনের জন্য বিখ্যাত লক্ষ্মীপুর জেলা। এ জেলায় জাতীয় সংসদের চারটি আসন রয়েছে। এখানে বিএনপি প্রার্থীরা সাধারণত ভাল ভোট পেয়ে থাকেন। এখানকার কোন কোন আসন এলাকায় বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে রয়েছে দ্বন্দ্ব।

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ)ঃ ১৯৭৩ সালের পর হতে এ আসনে বিএনপি থেকে যিনিই সমর্থন পেয়েছেন তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রামগঞ্জে বিএনপি এখন দুই ভাগ। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া এবং ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদের নেতাকর্মীরা আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে সাবেক ভিপি আবদুর রহিম বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে এ আসনে সভা সমাবেশ ও গণসংযোগ করে আসছেন, রামগঞ্জের দ্বি-খণ্ডিত বিএনপিকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার দিয়ে নেতা-কর্মীদের সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন।

আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মাঠ গুছিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দলের পক্ষে সমর্থন আদায় ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত সাড়ে ৪ বছরের নানা সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে ভোটারদেরকে চমক দেখাতে সুস্থ ধারার রাজনীতির কথা বলছেন আওয়ামী লীগের সক্রিয় এক মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বিশিষ্ট কলামিস্ট ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হক মিলন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন টুয়েন্টি ওয়ান বাস্তবায়ন এবং এ আসনের মানুষের ভাগ্য বদল ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে যাব। দল থেকে আমাকে সমর্থন দিলে জনগণের ভোট ও তাদের ভালোবাসায় আমি এ আসনটি উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের ঘরে লক্ষ্মী আনতে সক্ষম হব-ইনশাআল্লাহ।

রামগঞ্জ আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আরো রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইমাম হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ—সভাপতি সফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. সফিক মাহমুদ পিন্টু, সাবেক ছাত্রনেতা এম এ মমিন পাটওয়ারী, এলডিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এম এ আউয়াল, রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এম এ মমিন পাটওয়ারী, লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জামায়াত নেতা ডাঃ শাহিনূর আলম।

প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন নিয়ে রামগঞ্জের সংসদীয় এলাকা। প্রবাসের অর্থ এ উপজেলার মানুষের জীবন-যাত্রার মান করেছে ব্যাপক সমৃদ্ধ। তবে ভোটাররা ব্যক্তির চেয়ে প্রতীক দেখে ভোটাধিকার প্রয়োগে বেশি আগ্রহী।

সম্প্রতি বিএনপির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে রামগঞ্জ উপজেলায়। গত ২০ জুলাই বিএনপির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের গুলি বিনিময় ও সংঘর্ষের পর তারা কয়েকদিন সশস্ত্র অবস্থানে ছিল।

লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুরঃ রায়পুরকে বিএনপির দুর্গ হিসেবে অভিহিত করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে বর্তমানে দুরবস্থায় বিএনপি। একদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁঞা অপরদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী লেঃ কর্ণেল (অবঃ) আবদুল মজিদ। এছাড়াও বিভিন্ন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ জমাট বেঁধেছে নেতা-কর্মীদের মনে। সম্প্রতি সদর উপজেলা (পশ্চিম) বিএনপির পকেট কমিটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপির আরেকটি গ্রুপ। তাদের দাবী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে এ পকেট কমিটি অনুমোদন করে। অপরদিকে কেরোয়া ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের গুলি বিনিময়, সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা-মামলার ঘটনায় প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে এ দলটির বিরোধ। সংসদ সদস্য এবং তার অনুসারী রায়পুর পৌর বিএনপির আহবায়ক এবিএম জিলানীর একচ্ছত্র আধিপত্যের অভিযোগ এনে দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুদ্ধ।

রায়পুর আসনে সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা কেউ মাঠে নেই। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে অনেকটা একত্রিত হয়ে ঘর গোছানোর কথা বললেও নির্বাচনী মাঠে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

খবর নিয়ে জানা গেছে, বিগত দিনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালে এ আসনে প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন। পরে বিতর্কিত এক উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হারুনুর রশিদের কাছে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মদ পরাজিত হন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া পুনরায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে আবুল খায়ের ভূঁইয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সবশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান হারুনুর রশিদ, দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী খোকন। এতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া বিজয়ী হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে হারুনুর রশিদ নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখেন। সমপ্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী খোকন কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করে তোলার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় একেবারে কম আসেন। তিনি ঢাকায় বিএনপির রাজনীতি নিয়েই বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন। টিআর-কাবিখাসহ সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ বন্টন করার জন্য তিনি রায়পুর পৌর বিএনপির আহবায়ক এবিএম জিলানীকে দায়িত্ব দেন। জিলানী পছন্দমত নিজের অনুসারীদের মাঝে এসব বরাদ্দ বন্টন করলেও অধিকাংশ প্রকল্প রয়েছে কাগজে-কলমে। এতে ক্ষুব্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংসদীয় এলাকার নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের বিগত সাড়ে ৪ বছরে সিন্ডিকেট করে ৫-৬ নেতা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, টি-আর কাবিখাসহ সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ লুটপাট করে তাদের কেউ কেউ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন। আওয়ামী লীগের ২-১ নেতার বিলাসবহুল চলাফেরা, গাড়ি-বাড়ির কথা রায়পুরের বাসিন্দাদের মুখে মুখে।

অন্যদিকে এখানকার সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রওশন জাহান সাথী দায়িত্ব পাওয়ার পর এলাকায় মাত্র ৩-৪ দিন এসেছেন। গুটি কয়েক আওয়ামী লীগ নেতা ছাড়া এলাকার লোকজন তাকে চিনেন না।

আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর ডাঃ এহসানুল কবির জগলুল, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী লেঃ কর্ণেল (অবঃ) আবদুল মজিদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ আলী খোকন, শিক্ষানুরাগী বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁঞা ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাহারের নাম শোনা যাচ্ছে।

সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া জানান, লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করছে। তারা বিএনপি নেতা-কর্মীদের একের পর হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমার নেতৃত্বে এ আসনে নেতা-কর্মীরা সংগঠিত রয়েছে। এছাড়া গত বিএনপির আমলে লক্ষ্মীপুরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রার্থিতা প্রসঙ্গে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সুসংগঠিত। আমি দল থেকে মনোনয়ন চাইব। দল যাকে মনোনয়ন দেয় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জয়ী করতে কাজ করব।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর)ঃ এ আসনে আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আর সাংগঠনিকভাবে কিছুটা বেহাল হলেও বিএনপি তাদের এ আসনটি ধরে রাখতে বেশ তত্পর। দলীয় নেতা-কর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে এখন একতাবদ্ধ। শুধু হরতাল হলে জামায়াত-শিবিরের প্রসঙ্গ স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসে। জাতীয় পার্টিও সুসংগঠিত হতে ইতিমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তত্পরতা জোরদার করেছে।

আওয়ামী লীগের একপক্ষে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র এম এ তাহের, জেলা পরিষদের প্রশাসক একে এম শাহজাহান কামাল এবং অপরপক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলা আ’লীগের সভাপতি এম আলাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম। গত এক বছর ধরে তাদেরকে জাতীয় ও স্থানীয় কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করতে দেখা গেছে। সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলে অপ্রতিরোধ্য বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীকে শেল্টার, মাদক ব্যবসা, ডাকাতি ও টেন্ডারবাজি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির বৈঠকে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে মতবিরোধে জড়াতে দেখা গেছে।

লক্ষ্মীপুরের এ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন-বর্তমান সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম শাহজাহান কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য এড. খায়রুল এনাম, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম আলাউদ্দিন, সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আবু তাহের, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মনিরুজ্জামান চৌধুরী, বায়োফার্মার এমডি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. আনোয়ারুল আজিম ।

গেল সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের মাঝামাঝি সময়ে আন্দোলনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপির ওপর হামলা-মামলা ও পরে কারাগারে গিয়ে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন। সবশেষ কয়েকদিন আগে বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে কিছুটা মান-অভিমান চলছে। দলীয় এমপি থাকা সত্ত্বেও নেতা-কর্মীরা আশানুরূপ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। এজন্য তৃণমূল পর্যায়ের অনেকেই জেলার নেতাদের ওপর অসন্তুষ্ট। তারপরও আওয়ামী লীগ সরকারের হামলা-মামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং দলীয় বৃহত্ স্বার্থে এ আসনটি ধরে রাখতে তারা একতাবদ্ধ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন শাখা যুবদল ও ছাত্রদলসহ সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে সংসদ সদস্য এ্যানি নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলীয় নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এদিকে সাহাবুদ্দীন সাগর বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সদর আসনের মধ্যবর্তী মান্দারী এলাকার বাসিন্দা। বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী মনে করেন শাহাবুদ্দীন সাগরকে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হলে তার বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর সদরে জামায়াত-শিবির বিগত দিনের তুলনায় সাংগঠনিক কাঠামো গুছিয়ে নিয়েছে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় জেলা জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হলেও তারা অনেকটা নির্ভয়ে সাংগঠনিক তত্পরতা চালাচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিগত দিনে ডাকা হরতালে লক্ষ্মীপুর আলিয়া মাদ্রাসা, বিসিক শিল্পনগরী, নতুন বাস টার্মিনাল, দালালবাজার, মিয়া-রাস্তার মাথা, জকসিন বাজার, মান্দারী বাজার ও চন্দ্রগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের রাজনৈতিক তত্পরতা লক্ষণীয়।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) ঃ মেঘনাপাড়ের জনপদ রামগতি ও কমলনগর উপজেলা। এ দুই উপজেলাকে রাজনীতিবিদদের উর্বর ভূমিও বলা হয়। এ আসনের প্রার্থীরা প্রায় সবাই ভিআইপি।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ পর্যন্ত কত নির্বাচন এলো আর গেলো, কিন্তু জনগণের প্রধান দাবি নদী ভাঙ্গন রোধে কেউই কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। চরাঞ্চলের এ সরল মানুষগুলোকে নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শুধুই রাজনীতি করে। ভোটের আগে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী পরিকল্পনার কথা বলে, ভোট চলে গেলে নির্বাচিত হওয়ার পর ভুলে যান সব উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। এ জন্য এবার সংসদ সদস্য পদে যে প্রার্থীই তাদের কাছে ভোট চাইবেন তারা ভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি আদায়ের চেষ্টা করবেন।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিকল্পধারা বাংলাদেশ’র মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রব চৌধুরী, বর্তমান সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত সংসদ সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউল বারী বাবু, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সাইমুন বেগম, শিল্পপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুজাহিদুল ইসলাম জসিম, জামায়াত নেতা ডা. রেদোয়ান উল্যাহ শাহিদী, রামগতি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ উদ্দিন চৌধুরী ও রামগতি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল।

দৈনিক ইত্তেফাক সৌজন্যে