কর্ণফুলী-৫ জাহাজের ১৪ হাজার ৪শ বস্তা ইউরিয়া সার কমলনগর থানা পুলিশ হেফাজতে

karnafuliনিজস্ব প্রতিবেদক: অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে রামগতির মেঘনায় নদীতে কর্ণফুলী-৫ জাহাজের চালক নুর নেওয়াজ খুন হওয়ার পর থেকে ওই জাহাজের ১৪ হাজার ৪শ বস্তা ইউরিয়াসহ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল কমলনগর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। উদ্ধারসহ শুরু থেকেই জাহাজটির সাবিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন হাজিরহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এবং উপ পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দিন খাঁন।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল চর কালকিনির বাতিরঘাট গিয়ে সারসহ ওই জাহাজকে পুলিশ পাহারায় দেখা যায়। এর আগে শনিবার (৮নভেম্বর) ভোর রাতে চালক শূন্য জাহাজটি কমলনগরের মেঘনা নদীর বাতির ঘাট এলাকায় স্রোতে ভেসে আসে।

শুক্রবার চট্রগ্রামের কাপকো থেকে সার নিয়ে পাবনার বাঘাবাড়ি যাচ্ছিলো ওই জাহাজটি। পথে রামগতির মেঘনা নদীর চর আবদুল্লাহ এলাকা পৌঁছলে চালক খুন হন। পরে স্রোতের অনুকূলে ভাসতে ভাসতে কমলনগরের বাতির ঘাট এলাকায় জাহাজ কর্ণফুলী-৫ অপর একটি জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে হাজিরহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দিন খাঁন নদী থেকে কূলে নিয়ে জাহাজটি পুলিশ হেফজতে রাখেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা দেখা যায়, জাহাজে বোঝাই ১৪ হাজার ৪শ বস্তা ইউরিয়া সার প্লাস্টিক (বড় তেরপাল) দিয়ে মোড়ানো আছে। জাহাজ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ঢুকে দেখা গেছে রক্ত নদীতে গড়িয়ে পড়ার দাগ।

প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে জাহাজের গ্রিজার পারভেজ, জাহাজের লস্কর টিটু ও শামীমসহ ৫ জন জাহাজ চালক নূরে নেওয়াজসহ তিনজনকে হত্যা করে এবং দুই জনকে একটি কেবিনে বন্দিকরে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় জেলেরা পারভেজকে নদী থেকে আটক করে পুলিশে সপোর্দ করে।

শনিবার (৮নভেম্বর) রাতে জাহাজের মালিক আবদুস সালাম বাদী হয়ে ওই জাহাজে কর্মরত চারজনসহ পাঁচ জনকে আসামী করে কমলনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, গ্রেফতারকৃত পারভেজকে আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

রোববার (৯ নভেম্বর) গভীর রাতে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর রামগতির আলেকজান্ডার মাছঘাট এলাকা থেকে চালক নুর নেওয়াজের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় এখনো দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ডাকিতর ঘটনা নয়; অভ্যন্তরীন কোন্দলে ঘটনাটি ঘটেছে। জাহাজের কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। সার পুলিশের হেফাজতে আছে। নিখোঁজদের উদ্ধার ও পলাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।