লক্ষ্মীপুরের এমপি আবদুল্লাহর আচরণে ক্ষুব্দ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা ফরিদুন্নাহার লাইলী

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলা বছর শুরুর প্রথম দিনেই লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ,র অসৌজন্য আচরণে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলীসহ লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট তোয়াহা স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয় মাঠে কৃষকলীগের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ সময় ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, “এমপি আবদুল্লাহ কখনো আওয়ামীলীগ করেনি, সে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিল, জাসদ করেছে এবং বিএনপির লোক ছিল। সময়ের কারণে সে আওয়ামীগের টিকেটে এমপি হয়ে আজ নিজের সুবিধা নিচ্ছে। তাই আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে সে সম্মান করতে জানেনা। তিনি এ এমপির মুক্তিযুদ্ধের অংশ গ্রহনের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। প্রায় ৫ মিনিটের  এ বক্তব্যের পুরো অংশ জুড়েই ছিল তীব্র ভাষার সমালোচনা। শুধু লাইলী একাই নন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকারী সকল অতিথিবৃন্দ। এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ড. বদরুল হাসান কচি উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাবেক সভাপতি এম আলা উদ্দিন, জেলা আওয়ামলীগের সহসভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান, কমলনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি একেএম নুরুল আমিন মাস্টার, জেলা আওয়ামলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতলব, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিজবুল বাহার রানা, জেলা কৃষক লীগের দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ এবং কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আশরাফুজ জামান রাসেল প্রমুখ।

স্থানীয় কৃষকলীগ নেতারা জানায়, শনিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট তোয়াহা স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয় মাঠে কৃষকলীগের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ । কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী আজ হঠাৎ করে লক্ষ্মীপুর আসার খবরে জেলা কৃষকলীগ ওই অনুষ্ঠানে এমপি মোহাম্মদ আবদুল্লাহর স্থলে ফরিদুন্নাহার লাইলী কে প্রধান অতিথি করে অনুষ্ঠানের সময় ঠিক রাখে। সে কারণে এমপি এর কিছু আগে একই স্থানে বিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে তড়িঘড়ি করে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে চলে যান। পথে ফরিদুন্নাহার লাইলী এবং লক্ষ্মীপুর থেকে আগত আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের গাড়ি বহরের সাথে সংসদ সদস্যের গাড়ি বহরের দেখা হলেও তিনি কোন কথা বলেন নি। যদিও এর আগে সাংসদ জনাব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নিজেই অনুষ্ঠানে আসার জন্য এ অতিথিবৃন্দদের কে আমন্ত্রন জানিয়েছেন। পরে কি কারণে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাসহ জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের অনুষ্ঠান ত্যাগ করেছেন, তার থেকে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু তার বক্তব্যে  একজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ জেলা আওয়ামীলীগের উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দের প্রতি সংসদ সদস্যের এ ধরণের আচরণ কে চরম অসৌজন্য আচরণ বলে অভিহিত করে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন।