রামগতি-কমলনগর নির্বাচনী আসনে বরাবরই বঞ্চিত আ.লীগের ত্যাগী নেতারা

সরোয়ার মিরন/বিশেষ প্রতিনিধি: সুখের পায়রা বললে ভুল বলা হবেনা। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) নির্বাচনী আসনে আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে বরাবরই সুখের পায়রা বা বসন্তের কোকিলেরা আশ্রয় পশ্রয় পেয়ে আসছে নব্বই দশকের পর থেকেই। অষ্টম এবং নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হলেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া আলহাজ আবদুর রব চৌধুরী। অবশ্য এর আগে তিনি দুইবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী রাজনীতিতে আবারো সেই বসন্তের কোকিলের জয়গান। আওয়ামীলীগের প্রবীন ও একান্ত সংগঠকদের ঠেলে দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হলো বিশিষ্ট্ শিল্পপ্রতি আবদুল্ল্যাহ (আবদুল্লাহ আল মামুন) কে। রামগতি ও কমলনগরে তার পরিচিতি না থাকলেও সবার সামনে আসে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রার্থী মেজর (অব:) আবদুল মান্নানের কুলা প্রতীকে সক্রিয় অংশগ্রহনের মাধ্যমে। ব্যবসায়ী কাম শিল্পপতি হলেও রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন না তিনি। গত দু তিন বছর ধরে বিকল্প ধারা বাংলাদেশ এর প্রার্থী হবেন বলে জোর গুঞ্জন থাকলেও কয়েক মাস ধরে আওয়ামীলীগের টিকেট পাচ্ছেন বলে শোরগোল ওঠে। অবশেষে মনোনয়ন পত্র কেনার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত দুইবার মনোনয়ন পাওয়া আলহাজ আবদুর রব চৌধুরী এবার নির্বাচন করতে না চাইলেও তৃনমূলের আগ্রহে মনোনয়ন ফর্ম কেনেন তিনি। এছাড়াও মনোনয়ন ফর্ম কেনার তালিকায় আছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা এমপি তুখোড় রাজনীতিবিদ ফরিদুন নাহার লাইলী,আয়কর আইনজীবি এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, রামগতি পৌরসভার প্রথম ও সাবেক মেয়র আজাদ উদ্দিন চৌধুরী এবং তার স্ত্রী উপজেলা চেয়ারম্যান রোকেয়া আজাদ। চৌধুরী পরিবার কেন্দ্রীক আওয়ামীলীগের রাজনীতি আবর্তিত হলেও এ দুটি উপজেলায় আওয়ামীলীগের মূলধারা হলেন ওয়াহেদ উদ্দিন, মেজবাহ উদ্দিনরা। স্বাধীনতার পর থেকে মূলধারার এসব সংগঠকেরা পাননি যথাযথ মূল্যায়ন। সারা জীবন শ্রম ঘাম দিয়ে রাজনীতি করলেও নির্বাচনের সময় অপাঙ্কতেও হয়ে যান তারা। সবকটি নির্বাচনেই বাইরে থেকে এনে প্রার্থী দেয়া হয়।

এবারও তার পূনরাবৃত্তি ঘটলো। বার বার একই ধরনের ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটায় নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে এসব তৃণমূল কর্মী ও সংগঠকেরা। কমলনগর আর রামগতির রাজনৈতিক ইতিহাসে খুবই ভালমানের একজন সৎ মানুষ হিসাবে খ্যাতি জুড়ে আছেন আয়কর আইনজীবি এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান। কমলনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সদস্য পদে থাকলেও এ দু উপজেলার রাজনীতিতে বড় অবদান রেখে চলেও শেষ পযন্ত মনোনয়নের দৌড়ে এই ভাল গুনাবলীর মানুষটির ভাগ্যেও দলীয় টিকেট জুটল না।

ভূমিহীন নেতা বলে পরিচয় দেয়া আজাদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন আলেকজান্ডার ইউনিয়নের দুইবারের চেয়ারম্যান, রামগতি পৌরসভার প্রথম মেয়র। অতীত কর্মকান্ডে কলঙ্ক তিলক থাকায় মনোনয়ন যে পাবেন না তা অনেকটা নিশ্চিত ছিলো। তাছাড়া পুরো আসনে তার গ্রহনযোগ্যতার ব্যাপারও আছে। নবম জাতীয় সংসদে এ অঞ্চলের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ফরিদুন নাহার লাইলী নোয়াখালীর মেয়ে হওয়ায় মনোনয়ন পাবেন না বলে ধরে নেয়া যায়। কিন্তু জীবনের শেষ বারের মতো নির্বাচন করতে চাওয়া আলহাজ আবদুর রব চৌধুরীর ব্যাপারে সম্পূর্ন অপ্রত্যাশিত। তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন না করে আবদুল্যাহ আল মামুমকে মনোনয়ন দেয়ায় অভিভূত রাজনীতিতে আগ্রহ আছে এমন ব্যক্তিরা।

জল অনেক গড়ালেও বর্তমান সময়ে আওয়ামীলীগের মূলধারা বলে পরিচিতি পাওয়া চৌধুরী পরিবার এবার বঞ্চিত হলো আওয়ামীলীগের ব্যানারে নির্বাচন করা থেকে। দীর্ঘ দিনের বিএনপি রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তরী ভেড়ানো আজাদ উদ্দিন চৌধুরীও পেলেন না আ.লীগের মনোনয়ন। রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় আওয়ামী রাজনীতির নিত্য নতুন মেরু করনে বিদ্রোহের দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে অনেকের ধারনা। আবদুল্যাহ আল মামুন মনোনয়ন পাওয়াতে রামগতির দক্ষিনাঞ্চলের আওয়ামীলীগে আনন্দ জোয়ার বইলেও কমলনগর, আলেকজান্ডার তথা উত্তরাঞ্চলে নেমেছে শোকের ছায়া। তৃণমূল রাজনীতিতেও হতাশার কালো মেঘ। পুরো নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চৌধুরী পরিবারের হাতে থাকবে বলে দলীয় সকল কর্মকান্ড ছিলো এ কেন্দ্রিক। উড়ে এসে জুড়ে বসা আবদুল্যাহ আল মামুনকে তৃণমূল কর্মীরা কতো মেনে নিতে পারবেন তা এখন দেখার পালা। ইতিমধ্যে শোর উঠেছে আলহাজ আবদুর রব চৌধুরী স্বতন্ত্র্য প্রার্থী হবেন। অবশ্য এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।