কমলনগর-রামগতিতে নৌকার মাঝির চিন্তা হরিণ নিয়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি: কমলনগর-রামগতি আসনে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রাথী আজাদ উদ্দিন চৌধুরী । প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের প্রার্থীদের চেয়ে পিছিয়ে নেই। কোনো কোনো স্থানে তাকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ বরঞ্চ বেশিই চোখে পড়েছে। এই আসনে জাতীয় পার্টির নাম মাত্র প্রার্থী থাকলেও এলাকায় তাকে কেউ আজও দেখেনি। ভোটাররাও তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। ফলে এই আসনে নৌকার মাঝি ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুনের চিন্তা হরিণ নিয়ে।
এদিকে ভোটকেন্দ্রে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের নাশকতা চালানোর আশঙ্কায় সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সোহেল সামাদ বলেন,লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের সবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কমলনগর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, বিগত দিনে জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ও বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে কমলনগরে ১৫টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভোটের দিন রামগতি ও কমনগরের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ভোট প্রতিহত করার পরিকল্পনা করেছে। এ জন্য সদর ও রায়পুর উপজেলা থেকে তাদের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে অবস্থান করবে। তবে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম আলাউদ্দিন বলেন, ‘ভোটের দিন বিএনপি-জামায়াতের যেকোনো সহিংসতা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের নেতা-কর্মীরা সতর্ক থাকবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়ে নৌকা নিয়ে মাঠে নামেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রামগতি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম আজাদ উদ্দিন চৌধুরী (হরিণ)। তাঁরা একে অন্যের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচার কাজে বাধা, হামলা, কালো টাকার প্রভাব ও আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগও তুলছেন। এ ছাড়া প্রচারণা চালাচ্ছেন অ্যাডভোকেট এ কে এম শরিফ উদ্দিন (ফুটবল)। জাতীয় পার্টি সমর্থিত বেল্লাল হোসেন প্রার্থী হলেও কোথাও তাঁকে একবারের জন্যও দেখা যাচ্ছে না, সাঁটানো হয়নি তাঁর কোনো পোস্টার-ফেস্টুন। কমলনগরের কয়েক জন ভোটার কে ভোট বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা সবাই স্বীকার করেছেন যে, মাঠে স্বতন্ত্র প্রাথী আজাদ উদ্দিন চৌধুরীর অবস্থান ভাল। কারণ হিসাবে তার তুণমূল রাজনীতিই তাকে ভাল অবস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

প্রসঙ্গত, এ জেলায় চারটি নির্বাচনী এলাকা। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনে মোহাম্মদ নোমান ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে এ কে এম শাহজাহান কামাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।