দেশে ‘দানবতন্ত্র’ চলছে: আ স ম রব

ঢাকা: ‘বাংলাদেশে যত রাষ্ট্রীয় সংস্থা আছে তার সবগুলো দলীয়করণ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে দানবতন্ত্র চলছে’ উল্লেখ করে ‘এখানে জনগণের শাসনের পরিবর্তে একজনের শাসন চলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে অধিকার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন জানিয়েছেন বাংলানিউজ।

সেমিনারে মূল বক্তব্য পাঠ করেন অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন মিলন।

আ স ম রব বলেন, ‘বাংলাদেশে কর্তার ইচ্ছায় কাজ হচ্ছে। ফলে দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। তাই দানবতন্ত্রকে দমন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কারণ দানবতন্ত্র দমনে একক আন্দোলনে কেউ জয়ী হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কিসের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? আমরা দেশে হত্যা, গুম, নির্যাতনের জন্য মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করিনি। এখন দেশে যা চলছে তাতে এ দেশের জনগণ পাকিস্তানি খুনিদের হাত থেকে বাংলাদেশি খুনিদের হাতে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কালো টাকা, ঘুষ, দুর্নীতির দৌরাত্ম্য এত বেশি বেড়েছে যে আমরা এখন কেউ সত্য কথা বলতে পারি না। আগামীতে হত্যা, গুম, নির্যাতনের জন্য বাংলাদেশের নাম গিনেজ বুকে উঠতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকার নৈতিকভাবে আমাদের ধ্বংস করে দিয়েছে। যেটা ব্রিটিশরা কিংবা পাকিস্তানিরা করতে পারেনি। এ সরকার বুঝে গেছে তারা গণতান্ত্রিকভাবে আর জনগণের কাছে যেতে পারবে না।’

‘শেখ হাসিনা স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের মডেল গ্রহণ করেছেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইয়ুব খানের আমলেও অনেক উন্নয়ন হয়েছিলো, নতুন নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ হয়েছিলো কিন্তু তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন কোনো প্রতিপক্ষ না পেয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ-আওয়ামী লীগ টেন্ডার, চাঁদাবাজি, অবৈধ পথে অর্জিত সম্পদ ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন বিহারিরা পাকিস্তানি। কিন্তু আমি বলতে চাই ১৯৭১ সালে এ দেশে বিহারি-বাঙালি যুদ্ধ হয়নি। যুদ্ধ হয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে। তাই বাঙালি আবারও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’

অধিকারের সভাপতি আদিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, নারী নেত্রী ফরিদা আক্তার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন বায়োস্কোপের প্রধান নির্বাহী কাজী জেসিন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল রহমান, অ্যাডভোকেট জেড আই পান্না প্রমুখ।