পানিহীন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স, রোগীদের দুর্ভোগ

রায়পুর প্রতিনিধি ঃ রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে প্রায় এক বছর ধরে সুপিয় পানির ব্যবস্থা নেই। এতে করে সিজার ও ভর্তিরত রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এতে রোগীরা হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী বাড়ি ও দোকান থেকে বতলজাত পানি পান ও ব্যবহার করছেন এবং আবাসিক এলকাবার ভিতরের মলমুত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবিষয় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও পতিকার পাচ্ছেনা।

বৃস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকালে সরজমিনে উপজেলার ৫০ শয্যার সরকারি এ হাসপাতালে গেলে চিকিৎসারত পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের রোগীরা এ অভিযোগ করেন। তিন ওয়ার্ডে ৪৩ জন রোগী ভর্তি দেখা গেছে।

হাসপাতালের ভিতরে রোগীদের জন্য ৯টি পানির লাইন ও ১২টি টয়লেট রয়েছে। পানির লাইনগুলো গত এক বছর ধরে বন্ধ এবং টয়লেটগুলো অপরিস্কার থাকায় রোগীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তারা হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বাড়ি থেকে এনে কেউ কেউ পান করছে আবার কেউ বাহিরের দোকানগুলো থেকে বতলজাতক পানি কিনে এনে তা ব্যবসার করছেন। দিনের বেলায় হাসপাতালের বাহিরে মলমূত্র ত্যাগ করলেও রাতের বেলায় আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন স্থানে তা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দক্ষিণ চরবংশী গ্রাম থেকে আসা ভর্তি রোগী হাসিনা বেগম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি তার নবজাতক সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা সেবা পেলেও খাবার পানি পাচ্ছেন না। পুরুষ রোগীরা বাহিরে গিয়ে গোসল করতে পারে। কিন্তু আমরা রাতে পুকুরে গিয়ে গোসলসহ অন্য কাজ করতে হয়। পুরুষ ওয়ার্ডের বৃদ্ধ লোকমান মিয়া বলেন, ৫ দিন হয়েছে তিনি মারামারি ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। তার ছেলেকে দিয়ে হাসপাতালের পাশের বাড়ি ও দোকান থেকে পানি কিনে এনে ব্যবহার করলেও মলমূত্র ত্যাগ করতে হচ্ছে বাহিরে গিয়ে। এতে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। কিন্তু এ পানির জন্য সিজার ও ভর্তিরত রোগীদের কষ্ট হলেও দেখার যেন কেউ নেই।

হাসপাতালের পাশের বাড়ী মহিব উল্যা মুন্সি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, সরকার এ হাসপাতালের জন্য লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। এক বছর ধরে এ হাসাতালে পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। রাত দিন রোগিরা আমাদের বাড়ী ও দোকান থেকে পানি ও টয়লেটের কাজ করছেন। কিন্তু রোগিরা পানির জন্য কষ্ট পাচ্ছে বিষয়টি কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।

হাসপাতালের পারভিন আক্তার নামের এক সেবিকা বলেন, পানির জন্য শুধু রোগীরা কষ্ট পাচ্ছেনা। আমরা যারা ডাক্তার নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসিক ভবনে বসবাস করতেও কষ্ট হচ্ছে। সকালে হাসপাতালের পাশের বাড়ি থেকে সারাদিনের জন্য পানি এনে রাখতে হয়। গোসলসহ আসবাবপত্র ধোঁয়া মোছার কাজ করতে হচ্ছে পুকুরে গিয়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোস্তফা খালেদ বলেন, প্রায় ৫ মাস আগে এ হাসপাতালে যোগদান করেই দেখি পানির সমস্যা। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎতের লোডশেডিংয়ের কারনে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ করতে না পারায় সিজার করা ও ভর্তিরত রোগীদের সমস্য হচ্ছে।

রায়পুর পৌরসভার মেয়র এ বি এম জিলানী বলেন, হাসপাতাল অপারেশন থিয়েটরে (ওটি) ব্যবহার করার জন্য পৌরসভা থেকে পানি সরবরাহের লাইন দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন জলধারায় পানি উত্তোলন সম্ভব হচ্ছেনা।

রায়পুর পলী বিদ্যুত অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার (ডিজিএম) মাহফুজুর রহমান বলেন, কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্র না হওয়া পর্যন্ত পানির সমস্য থাকবে। এতে তাদের করার কিছু নেই।