লক্ষ্মীপুরে পানের খিলি ৮ টাকা, বিড়া-৩০০

নিজস্ব প্রতিনিধি: পানের জেলা লক্ষ্মীপুরে হঠাৎ করেই পানের দাম বেড়ে গেছে। আকস্মিকভাবে বাজার চড়ে যাওয়ায় পানের খিলির দামও বেড়ে গেছে। ১০ দিন আগে যে বড় পান পুরোটাই খিলি বিক্রি হতো ৫ টাকা কিন্তু সেখানে এখন বড় একটি পানকে দুই ভাগ করে ৪ টাকা করে খিলি বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা পুরো একটি বড় পানের খিলি বিক্রি করছেন ৮ টাকা দরে। রায়পুরের আড়তদারেরা বলছেন, শীতের কারণে বরজে পান উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাজারে পান ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনি ও বুধবার লক্ষ্মীপুরের সবচেয়ে বড় পান-বাজার হায়দরগঞ্জ এবং রায়পুরের ক্যাম্পেরহাট ও চর আবাবিল এলাকার বাজারে প্রতি বিড়া (৭২টি পান) বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়। অন্যদিকে প্রতি বিড়া ছোট পান বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। কিন্তু গত ১০ দিন আগে বিড়া ছিল ৮০-৯০ টাকা।

লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর এলাকার খিলি পান বিক্রেতা রাসেল বলেন, শীতের সময় প্রতিবছরই পানের দাম বাড়ে। তবে এবার বাজার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কমলনগরের পানের খুচরা বিক্রেতা শাহাজান লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর কে বলেন, দুই দিন আগে তিনি প্রতি বিড়া পান কিনেছেন ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। এখন মাঝারি আকারের সেই পান প্রতি বিড়া ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বড় আকারের প্রতি বিড়া পান কিনতে হচ্ছে ৩০০ টাকা দরে। এতে ছোট একটি পানের দাম পড়ছে পৌনে তিন টাকা, বড় পানের দাম পড়ছে ৪ টাকার বেশি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বরজে নতুন পান উৎপাদন শুরু না হওয়া পর্যন্ত আরও এক মাস এ অবস্থা চলবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন লক্ষ্মীপুরটোয়েন্টিফোর কে বলেন, শীত আর কুয়াশার কারণে পানের বরজে গাছ মরেও যাচ্ছে। ফলে বাজারে পানের সরবরাহ কমে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রায়পুর উপজেলায় চাষ হয়েছে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্মীপুরের সবচেয়ে বড় পান-বাজার বসে হায়দরগঞ্জ এলাকায়। জেলার পানপল্লী খ্যাত রায়পুরের ক্যাম্পেরহাট ও চর আবাবিল এলাকা । ‘রায়পুরে উৎপাদিত পান খেতে সুস্ব্বাদু।

রায়পুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নুরুল মমিন জানান, বর্ষা মৌসুমে পানের উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কম থাকে। আর শীতে ফলন কম হওয়ায় দাম চড়া থাকে।

জানা যায়,

পান পিপুল পরিবারভুক্ত গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের একপ্রকার গুল্মজাতীয় গাছের পাতা। আর্য এবং আরবগণ পানকে তাম্বুল নামে অভিহিত করত। নিশ্বাসকে সুরভিত করা এবং ঠোঁট ও জিহবাকে লাল করার জন্য মানুষ পান খায়। প্রধানত দক্ষিণ এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ পান খায়। কেবল স্বভাব হিসেবেই নয়, বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে সামাজিক রীতি, ভদ্রতা এবং আচার-আচরণের অংশ হিসেবেই পানের ব্যবহার চলে আসছে। অনুষ্ঠানাদিতে পান পরিবেশন দ্বারা প্রস্থানের সময় ইঙ্গিত করা হয়। এক সময় উৎসব, পূজা ও পুণ্যাহে পান ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাচীন অভিজাত জনগোষ্ঠীর মাঝে পান তৈরি এবং তা সুন্দরভাবে পানদানিতে সাজানো লোকজ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেত। পানের সাথে সবসময়ই সুপারি দেয়া হয়, তবে অনেকেই সুপারি ছাড়া পান খেতে পছন্দ করেন।অনেকে জর্দা দিয়েও পান খান।পান সাধারণত: কোনকিছু খাওয়ার পর মুখে নিয়ে চিবুনো হয়৷