লক্ষ্মীপুর-চৌমুহনী সড়কের আনন্দ বাসে শিশু ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: নোয়াখালীর চৌমুহনী করিমপুর রোডের মফিজ ভাণ্ডারীর গ্যারেজে আনন্দ যাত্রীবাহী বাসের ভেতর যুবলীগ কর্মী পারভেজ কর্তৃক ৬ বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনার পর ওই গাড়ির ড্রাইভার যুবলীগ কর্মী পারভেজের বাড়ি ঘেরাও করলেও পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি। তবে যাত্রীবাহী আনন্দ পরিবহন নামের গাড়িটি পুলিশ জব্দ করেছে। এদিকে মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতার বড় বোন। চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাক আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত ধর্ষক করিমপুর গ্রামের মুগা আমিন বাড়ির বদিউজ্জামানের ছেলে। ধর্ষক পারভেজ তিন সন্তানের জনক।

বেগমগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মফিজ ভাণ্ডারীর বাসস্ট্যান্ড গ্যারেজে গাড়িটি রেখে ওই শিশুটিকে প্রথমে ফুসলিয়ে পাশে দাঁড়ানো দণ্ডায়মান একটি ট্রাকে উঠায়। এরপর তাকে চা খাওয়ার কথা বলে চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর সড়কে চলাচলকারী আনন্দ পরিবহন গাড়িতে তুলে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর অবুঝ শিশুটি চিৎকার দিলে সে ধর্ষিতার হাতের মুঠোয় ৭০ টাকা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় এলাকার লোকজন এসে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে বেগমগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ধর্ষিতা শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাকে নোয়াখালী জেলা সদরে স্থানান্তর করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানায় ডাক্তার।

ধর্ষিতা শিশুর বাবা প্রায় ৩ বছর যাবৎ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত এবং মা বিভিন্ন বাসায় কাজ করেন। তারা ঘটনাস্থলের পার্শ্বে মুুন্সীবাড়িতে একটি ভাড়া বাসায় থাকে। তাদের বাড়ি বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রাম বলে জানা যায়। এদিকে ধর্ষিতার বড়বোন হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার মা গতকাল সকালে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে প্রভাবশালী একটি মহলের লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়। তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে তারা প্রায় অভুক্ত অবস্থায় রয়েছেন। সমাজের কোনো ব্যক্তি বা প্রশাসনের কেউ তাদের একবার দেখতে বা সহানুভূতি জানাতে আসেনি। তিনি বলেন, প্রকৃত দোষী পারভেজের শাস্তি না হলে তার হাতে আরো অনেক অবুঝ শিশু ধর্ষিত হতে পারে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার এমআর সাইমুন জানান, শিশুটির অবস্থা বর্তমানে একটু ভালো হলেও আশঙ্কামুক্ত নয়। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা গেলে তার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। গতকাল বিকালে ধর্ষিতার মা ঝর্না বেগম বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ত্রাসী পারভেজ ধরা পড়েনি।

সংবাদ সূত্র: মানবজমিন