কমলনগরে হামলার ৪দিন পরেও নিরাপত্তাহীনহায় স্কুল শিক্ষকের পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চর মার্টিনের বলিরপোলে এক প্রতিবেশীর অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিক্ষক পরিবারের ৩ সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে  ৭ ফেব্রয়ারি (বুধবার) সকালে  উপজেলার উত্তর পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের বাড়িতে। ঘটনার ৪দিন পার হলেও ওই শিক্ষক পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া তাদের পথে বাতিরখালের শাখা খালের ওপর নিজ খরচে কালভার্ট করতে গেলে উল্টো এটি সরকারী বরাদ্দ, তাদের দরজায় হচ্ছেনা কেন বলে পাশের বাড়ির লোকজন হামলা চালায়। এতে আহত হন শিক্ষকের ছেলে দাখিল পরীক্ষার্থী নজরুল ইসলাম, মেয়ে রুনা আক্তার, স্ত্রী নাছিমা বেগম।

এদের মধ্যে নজরুল ও তার বোন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী নাছিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার সন্তানরা শিক্ষিত। মেয়ে একজন শিক্ষকতাও করে অন্যরা পড়ে। তাদের বাবাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। যাতায়াতের অসুবিধা দূর করতে নিজ খরচে কালভার্ট নির্মাণ করতে গেলে পাশের বাড়ির হোসনেয়ারা(৩৬) আমাদের কাজে বাঁধা দিয়ে হামলা করে। প্রথমে বাড়ির গাছপালা নিধন করলে আমি বাঁধা দেওয়ায় আমার ওপর হামলা করলে মেয়ে রুনা এগিয়ে আসলে তাকে তারা অন্য স্থানে নিয়ে পিটতে থাকে।

এ সময় ছেলে নজরুল ছুটাতে গেলে আমি ঘটনা বাড়াবাড়ি হবে বলে তাকেও ওদিকে না যেতে ধরে রাখি। কিন্তু হোসনে আরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার ছেলের মাথায় ও হাতে জোরে আঘাত করলে মাথা থেকে অনেক রক্ত বের হয়েছে, তারা আমার ছেলের পুরুষাঙ্গে আঘাত করতেও দ্বিধা করেনি। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় হাসপাতালের দিকে নেওয়া হচ্ছে। হোসনেয়ারার বোন কহিনুর, ছেলে সহেল ও রুবেলকে নিয়ে ওই সময়ে আমার ১০আনা স্বর্ণের চেইন, মেয়ে রুনার ৮আনা স্বর্ণের চেইন, ৬আনা স্বর্ণের ঝাপসা ৩আনা আন্টি ও একটি ১৫শ টাকা দামের মোবাইল সেট নিয়ে যায়।” তিনি আরো বলেন, “হোসনেয়ারা নিজের বোন তাজেরাকে নিজেরাই পিটিয়ে যখন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে যায়, তখন ডাক্তার ঘটনা বুঝতে পেরে পাঠিয়ে দেয়ে।

কিন্তু ওই রোগী কিভাবে এখন উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাকে দেখিয়ে ওরা আমাদের মামলার ভয় দেখায়, কয়েকবার হুমকি-দুমকি দিয়েছে আমাদেরকে দেখে ছাড়বে।” ভুক্তভোগী শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক জানান, “আমি উপজেলাতে ছিলাম ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দায়িত্বে। ঘটনার ২ঘন্টা পর আমি খবর শুনে এসেছি। এখন তারা বিভিন্নভাবে আমাকে নিয়ে মানহানিমূলক মন্তব্য করে বেড়াচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমি ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, “যে পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর, তারা বিভিন্ন সময়ে নানা ধরণের অপরাধী কর্মকান্ডে লিপ্ত। এরা স্বামী পরিত্যাক্ত। কেউ বাঁধা দিলে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির মুখে রাখে।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাজিরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে ওই পরিবার আমাকে বিস্তারিত বিস্তারিত জানিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সত্যতা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”